শীতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন
কিভাবে শীতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের যত্ন নিবেন ||How to take care of the skin at home in the winter আজকের আলোচনার বিষয়: সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতিতে শীতে ত্বকের যত্ন নিবেন.. বন্ধুরা শুরু করছি আজকের ভিডিও, আর হ্যা ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখবেন, কারন ভিডিও এর শেষ অংশে আমরা আলোচনা করবো শীতে কিভাবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে সহজে ত্বকের যত্ন নিবেন, এছাড়াও থাকছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস । শীতকাল নিয়ে আমাদের বরাবরই বেশ আগ্রহ কাজ করে। আর এই ঋতুতে সবচেয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় ত্বকের যত্ন নিয়ে।এ মৌসুমে আদ্রতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের ত্বক। ত্বকের যত্নে প্রসাধনী কিনতে গেলেও আছে আসল-নকল ঝামেলা। তাই এবারের শীতে ত্বকের যত্নে নিজেই তৈরি করুন ফেসপ্যাক। বন্ধুরা শুষ্ক ত্বকের হাত থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত জলপান করুন: শরীর ভিতর থেকে আর্দ্র না হলে তার ছাপ পড়বে ত্বকের উপর৷ তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান করুন৷ দিনে অন্ততপক্ষে আট-দশ গ্লাস জলপান করা একান্ত আবশ্যক৷ ডাবের জল, ফলের রসও পান করতে পারেন৷ গরম পানি দিয়ে গোসল: ২০ মিনিট সময় ধরে গরম পানি দিয়ে গোসল বেশ আরামদায়ক। কিন্তু গরম পানি দিয়ে পাঁচ মিনিটের বেশি গোসল না করায় শেয়। দীর্ঘ সময় গরম পানিতে ভিজলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। সুগন্ধি সাবান বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবানের চেয়ে সিন্ডেট সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের আদ্রতা ভাল থাকে। আর্দ্রতা: গোসলের পর পর ভেজা ত্বকে ময়েশ্চারাইজার সমৃদ্ধ প্রসাধনী ব্যবহার করুন। ভেজা অবস্থায় ক্রিম লাগালে তা ত্বকের গভীরে যায়। শুস্ক বাতাসে গেলে ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতে কার্যকারী ভুমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর চর্বি: ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন- মাছ, বাদাম, জলপাই তেল, তিসি ও অ্যাভাকাডো ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করলে শীতে ত্বক ভালো থাকে। গোড়ালির যত্ন: শীতে পায়ের গোড়ালিতে প্রায় সমস্যা হয়ে থাকে। পা ফাটা ও রূক্ষতা দূর করতে বাড়িতেই নারিকেল তেল ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে একদিন গোসলের সময় ঝামা পাথর দিয়ে পা ঘষে নিন। এতে করে মৃত কোষ দূর হবে এবং রুক্ষতা কমবে। পায়ে বিশেষ করে গোড়ালিতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে পায়ের গোড়ালিতে ল্যাক্টিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ঘন ক্রিম ব্যবহার করে মোজা পরে নিন। ঠোঁটের যত্ন: সবসময় লিপজেল সঙ্গে রাখা ভালো। ঠোঁট চটচটে বা আঠালো লাগলে টুথব্রাশ দিয়ে হালকাভাবে মেজে নিন। তারপর সারাদিন ঠোঁট কোমল রাখতে বার বার লিপজেল ব্যবহার করুন। কমলালেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি ঠেকিয়ে রাখে বলিরেখা৷ কমলালেবুর খোসা, সরবাটা, ময়দা বা বেসনের প্রলেপের ব্যবহার রূপটান হিসেবে বহুদিন প্রচলিত৷ এই শীতে যত কমলালেবু খাবেন, তার খোসা ফেলবেন না৷ সব রোদে শুকনো করে রেখে দিন৷ পরে গুঁড়ো করে ব্যবহার করতে পারবেন৷ চকোলেটের ফ্যাটও ময়েশ্চরাইজ়ার হিসেবে ভালোই কাজ করে৷ ডার্ক চকোলেট গলিয়ে নিন মাইক্রোওয়েভ আভেনে৷ হালকা গরম থাকতে থাকতে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে ফেস প্যাক বানিয়ে নিন৷ মুখে, গলায়, ঘাড়ে, হাতে তা লাগিয়ে 15 মিনিট অপেক্ষা করুন৷ চোখের নিচ আর ঠোঁটের আশপাশের অংশে যেন প্যাক না লাগে সেদিকে নজর রাখবেন৷ তার পর সার্কুলার মোশনে হাত ঘুরিয়ে ম্যাসাজ নিন মুখে, সামান্য গরম জলে ধুয়ে ময়েশ্চরাইজ়ার লাগান৷ গোসলের আগে অয়েল মাসাজ করলেও স্নানের পর অতি অবশ্যই ময়েশ্চরাইজ়ার ব্যবহার করুন৷ তা না হলে শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কোনওদিন কমবে না৷ ত্বক অল্প ভিজে থাকা অবস্থাতেই ময়েশ্চরাইজ়ার লাগিয়ে নিন৷খুব কড়া সাবান আপনার ত্বকের শুষ্কতা কেড়ে নেবে৷ হালকা কোনও সাবান বা সোপ ফ্রি ক্লেনজ়ার ব্যবহার করুন৷ বেসন, মুসুর ডাল বাটা, চালের গুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে ত্বক খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা যায়৷ ক্লেনজ়ার বা স্ক্রাবার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই সতর্কতা মেনে চলা উচিত৷ অ্যালকোহলযুক্ত টোনার বা যে কোনও স্কিনকেয়ার প্রডাক্ট এড়িয়ে চলুন৷ এগুলি ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতার ভাঁড়ারে টান পড়ে৷ মিনারেল অয়েল, কৃত্রিম রং বা সুগন্ধিযুক্ত প্রডাক্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন৷ অহেতুক রোদ লাগাবেন না ত্বকে, বিশেষ করে সকাল ন’টার পর৷ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন৷ ছাতা, টুপি, সানগ্লাসও রোদের হাত থেকে আপনাকে বাঁচাবে৷ লিপ বাম কেনার সময়েও এমন কিছু বাছুন যার মধ্যে এসপিএফ আছে৷ পরিবর্তন আনুন খাদ্যতালিকায়৷ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন সি, আর ম্যাগনেশিয়াম যেন থাকে খাদ্যতালিকায়৷ তা না হলেই মুষড়ে পড়বে আপনার ত্বক৷ মাছ, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি, ফল, শাকসবজি রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়৷ খুব তেলমশলাদার বা ভাজাভুজিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন৷ বন্ধুরা আজকের ভিডিওটি কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানান ।আর যদি ভিডিওটি যদি ভাল লাগে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য বিষয়ক ভিডিও পেতে বিডি হেলথ টপিক্স চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন ও পাশে থাকা বেল আইকনটিতে ক্লিক করুন।


0 Comments